দিনাজপুরের ৫ টি অমীমাংসিত রহস্য | Dinajpur mysterious incidents

আপনি কি জানেন আপনার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই শান্ত নিরীহ প্রকৃতির আড়ালে কত ভয়ঙ্কর রহস্য লুকিয়ে আছে? একটা বদ্ধভূমির দিঘি, যার কালো জলের গভীরে আজও অসংখ্য মানুষের লাশ চাপা পড়ে আছে। ৪০ জন সাধক যারা এক রাতে একসাথে শহীদ হলেন, অথচ ইতিহাস তাদের নামটুকুও মনে রাখল না। বিশাল এক জলাশয় যার ঠিক মাঝখানে গেলে আজও অদৃশ্য এক উপস্থিতি মানুষকে নিচের দিকে টেনে ধরে। বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর মন্দির — ভূমিকম্পে যার হারিয়ে যাওয়া নয়টি চূড়ার একটা টুকরোও আজ পর্যন্ত কেউ খুঁজে পায়নি। আর একদল জাদুকরী কারিগর যারা নিজেদের হাতে অমরত্ব গড়ে তুলে নিজেরাই চিরতরে সময়ের গহ্বরে হারিয়ে গেছেন।

এই পাঁচটা রহস্য — সবকটাই দিনাজপুরের। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম কোণে একটা শান্ত নিরীহ জেলা। আর আজকে আমি আপনাদের নিয়ে যাব সেই পাঁচটা রহস্যের একদম গভীরে।

জুলুম সাগর — অত্যাচারের কালো জল

জুলুম মানে অত্যাচার, আর সাগর মানে বিশাল জলাশয়। অত্যাচারের সাগর। একটা দিঘির নাম কেন এরকম হবে? ভেবে দেখেছেন কখনো?

দিনাজপুরের এই দিঘিটা দেখতে সাধারণ। চারপাশে গাছপালা, স্থির কালো জল, মাঝে মাঝে পাখির ডাক। কিন্তু এই জলের তলায় যে কাহিনী আছে, সেটা শুনলে আপনার পায়ের তলার মাটি সরে যাবে।

স্থানীয় বয়স্ক মানুষেরা বলেন, ব্রিটিশ আমলে এই দিঘিই ছিল বদ্ধভূমি। যাদের ব্রিটিশরা ধরে আনত, যাদের বিদ্রোহী বলে চিহ্নিত করত — তাদের এখানে এনে হত্যা করা হত। আর লাশগুলো ফেলে দেওয়া হত এই কালো জলে।

কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। ১৯৭১ সাল। মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন দিনাজপুরে তাদের নৃশংসতা চালাচ্ছিল, তখন আবারও এই দিঘি হয়ে উঠল মৃত্যুর ঠিকানা। গণহত্যার পর লাশের পর লাশ ফেলা হত এই জলে। বলা হয়, কোনো কোনো রাতে এত লাশ ফেলা হত যে দিঘির জল লাল হয়ে যেত।

এখন এই দিঘির পাড়ে দাঁড়ালে একটা অদ্ভুত অনুভূতি হয়। স্থানীয়রা বলেন, সন্ধ্যার পর এখানে কেউ যায় না। কিন্তু কেন? কেউ কেউ বলেন জলের ভেতর থেকে আওয়াজ আসে — কান্নার মতো, চিৎকারের মতো। কেউ বলেন পাড়ে দাঁড়ালে পেছন থেকে কেউ ডাকে, কিন্তু ঘুরে তাকালেই কেউ নেই।

এটা কি শুধুই ভয়? নাকি শত শত নিহত মানুষের যন্ত্রণা আজও সেই জলে আটকে আছে? ইতিহাস বলে এখানে হত্যা হয়েছে, কিন্তু ঠিক কতজন, কারা ছিলেন তারা, তাদের পরিবার কি জানত, কারো লাশ কি কখনো উদ্ধার হয়েছে — কোনো উত্তর নেই। জুলুম সাগর আজও চুপ করেই আছে।

চেহেলগাজি মাজার — ৪০ জনের পরিচয়হীন মৃত্যু

দিনাজপুরে একটা পুরনো মাজার আছে — নাম চেহেলগাজি। চেহেল ফারসি শব্দ, মানে ৪০। আর গাজী মানে ধর্মযোদ্ধা। অর্থাৎ ৪০ জন গাজী।

এই মাজারে একসাথে সমাহিত আছেন ৪০ জন মানুষ। বলা হয় এরা ছিলেন সুফি সাধক, ধর্মপ্রচারক, যোদ্ধা। কিন্তু এখান থেকেই রহস্য শুরু। এই ৪০ জন — তারা আসলে কারা ছিলেন? কোথা থেকে এসেছিলেন? আরব থেকে? পারস্য থেকে? নাকি মধ্য এশিয়া থেকে? কে তাদের পাঠিয়েছিল? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন — তারা মারা গেলেন কীভাবে?

একটা তথ্য বলে তারা এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করতে এসেছিলেন, কিন্তু সেই সময় স্থানীয় শাসক তাদের বাধা দিয়েছিলেন। সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই সংঘর্ষে ৪০ জনই একসাথে শহীদ হন।

কিন্তু আরেকটা গল্প বলে তারা যুদ্ধে মারা যাননি। তাদের ধোঁকা দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ভোজসভার আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেই ভোজসভায় বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল। ৪০ জন একসাথে।

ভাবুন একবার — ৪০টা মানুষ একসাথে, একই জায়গায়, একই সময়ে। এটা কি সত্যিই ধর্মযুদ্ধ ছিল? নাকি পরিকল্পিত গণহত্যা? নাকি এমন কিছু ঘটেছিল যেটা ইতিহাস ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে দিয়েছে?

সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো এই মাজারের বয়স কয়েকশো বছর, কিন্তু কোনো শিলালিপি নেই, কোনো লিখিত দলিল নেই, কোনো ঐতিহাসিক বিবরণ নেই যেখানে স্পষ্ট করে লেখা আছে এরা ঠিক কারা ছিলেন। ৪০টা মানুষ একটা অজানা ভূমিতে এসে শহীদ হলেন। আর ইতিহাস তাদের নামটুকুও মনে রাখল না। এটা কি আসলেই সম্ভব? নাকি কেউ ইচ্ছা করেই তাদের পরিচয় মুছে দিয়েছে?

রামসাগর — জলের গভীরে অদৃশ্য উপস্থিতি

রামসাগর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মানবসৃষ্ট দিঘি। দিনাজপুর শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে। লম্বায় প্রায় ১০৩১ মিটার, চওড়ায় ৩৬৪ মিটার, গভীরতা গড়ে ৯ থেকে ১০ মিটার। রাজা রামনাথ আনুমানিক ১৭৫০ থেকে ১৭৫৫ সালের মধ্যে এটি খনন করান। এই দিঘি খনন করতে তৎকালীন প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল — যেটা সেই সময়ে বিশাল অঙ্ক। এখন এটা একটা জাতীয় উদ্যান। পর্যটকরা আসেন, ছবি তোলেন, ঘুরে বেড়ান। সুন্দর জায়গা, শান্ত।

কিন্তু এই দিঘির ব্যাপারে এমন একটা কথা আছে যেটা কোনো পর্যটন গাইডবুকে লেখা নেই। স্থানীয় মানুষেরা বলেন — রামসাগরের মাঝখানে যাবেন না।

কেন? কারণ যারা গেছেন তাদের অনেকেই একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা বলেন। দিঘির পাড়ে দাঁড়ালে কিচ্ছু হয় না। কিন্তু নৌকা নিয়ে যখন মাঝখানে পৌঁছাবেন, তখন হঠাৎ করেই একটা চাপ অনুভব হয় — বুকের উপর, মাথায় একটা অস্বস্তি যেটা ব্যাখ্যা করা যায় না। কেউ কেউ বলেন মাঝদিঘিতে গেলে হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কেউ বলেন চারপাশটা হঠাৎ অন্ধকার লাগে, যদিও রোদ তখনো আছে। কেউ বলেন জল থেকে একটা টান অনুভব হয় নিচের দিকে — যেন কেউ ধরে টানছে।

একটা পুরনো গল্প আছে। বলা হয় রাজা রামনাথ এই দিঘি খনন করিয়েছিলেন ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষের সময়। মানুষ তখন না খেতে পেয়ে মরছিল। রাজা চেয়েছিলেন জল সংরক্ষণ করতে, মানুষকে বাঁচাতে। কিন্তু কিছু কিছু বর্ণনায় বলা হয় এই দিঘি খনন করতে গিয়ে অনেক শ্রমিক মারা গিয়েছিলেন — অতিরিক্ত পরিশ্রম, অপুষ্টি, দুর্ঘটনা। কিন্তু তাদের লাশ কোথায় গেল? কেউ বলেন সেই লাশগুলো দিঘির তলদেশেই রয়ে গেছে, মাটিতে মিশে গেছে, জলে মিশে গেছে। আর সেই জলের মাঝখানে দাঁড়ালে সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো যেন জানান দেয়।

এখন প্রশ্ন হলো — এটা কি সত্যিই কোনো অতিপ্রাকৃত ব্যাপার? নাকি বিশাল জলাশয়ের মাঝখানে মানুষের স্বাভাবিক মনোবৈজ্ঞানিক প্রতিক্রিয়া? বিজ্ঞান বলে, বিশাল জলাশয়ের কেন্দ্রে গেলে মানুষের মধ্যে একটা আদিগত ভয় কাজ করে — চারপাশে কোনো আশ্রয় না থাকার অনুভূতি, গভীর জলের নিচে কী আছে সেই অজানার ভয়। কিন্তু স্থানীয়রা বলেন, না — এটা শুধু ভয় না, এটা অন্য কিছু। এটা উপস্থিতি। কেউ আছে সেখানে, জলের নিচে। সত্যিই কি কেউ আছে? রামসাগর জানে, কিন্তু বলে না।

কান্তজীউ মন্দির — হারানো নয়টি চূড়ার রহস্য

দিনাজপুরের কান্তনগরে দাঁড়িয়ে আছে একটা মন্দির। যেটাকে অনেকে বলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর মন্দির — কান্তজীউ মন্দির, নবরত্ন মন্দির। মহারাজা প্রাণনাথ ১৭২২ সালে এই মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু করেন। তার মৃত্যুর পর তার পোষ্যপুত্র রামনাথ ১৭৫২ সালে এটি সম্পন্ন করেন।

এই মন্দিরের গায়ে প্রায় ১৫ হাজার টেরাকোটা ফলক আছে। প্রতিটা ফলকে গল্প আছে — রামায়ণ আছে, মহাভারত আছে, কৃষ্ণলীলা আছে, সাধারণ মানুষের জীবন আছে। কৃষক, জেলে, যোদ্ধা, নর্তকী, পশুপাখি, ফুলের নকশা। আপনি যদি কাছে গিয়ে দেখেন — এক একটা ফলক, এক একটা মুখ, এক একটা হাতের ভঙ্গি। এত নিখুঁত, এত জীবন্ত — মনে হবে এগুলো মাটির তৈরি না, জীবিত মানুষকে কেউ পাথরে বন্দি করে রেখেছে।

কিন্তু এই মন্দিরে একসময় নয়টা শিখর ছিল। নয়টা চূড়া যেগুলো আকাশের দিকে উঠে গিয়েছিল। সেই শিখরগুলোতেও টেরাকোটার কাজ ছিল। বলা হয় সেগুলো ছিল পুরো মন্দিরের সবচেয়ে সুন্দর অংশ।

১৮৯৭ সাল, ১২ই জুন, বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট। গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকুয়েক — ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্প। আসাম থেকে শুরু হয়ে ধাক্কা লাগল পুরো উত্তরবঙ্গে। মাটি কেঁপে উঠল। দেওয়ালে ফাটল ধরল। আর কান্তজীউ মন্দিরের নয়টা শিখর একসাথে ভেঙে পড়ল। একটাও বাকি রইল না।

এখন মন্দিরের উপরটা সমতল। চূড়া নেই, মাথা নেই। মনে হয় যেন একটা মুকুট ছিল, কেউ সেটা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

কিন্তু আসল রহস্য এটা না। আসল রহস্য হলো — এই মন্দির যারা বানিয়েছিলেন, সেই কারিগররা তারা কারা ছিলেন? ১৫ হাজার টেরাকোটা ফলক, প্রতিটা আলাদা, প্রতিটা নিখুঁত। আজকের যুগে আধুনিক প্রযুক্তি দিয়েও এই মানের কাজ করা কঠিন। সেই ২৫০ বছর আগে হাতে, শুধু মাটি দিয়ে — কারা বানিয়েছিল এগুলো?

ইতিহাসে রাজার নাম আছে, রাজবংশের নাম আছে। কিন্তু শিল্পীদের একটাও নাম নেই। একটা তথ্যও নেই। কোনো দলিলে লেখা নেই তারা কোথা থেকে এসেছিলেন, কতজন ছিলেন, কত বছর লেগেছিল তাদের।

আর সেই হারিয়ে যাওয়া শিখরগুলো — ভূমিকম্পের পর ভাঙা টুকরোগুলো কোথায় গেল? কিছু হয়তো মাটিতে মিশে গেছে। কিন্তু বলা হয় অনেক টুকরো স্থানীয় মানুষজন নিয়ে গিয়েছিলেন। কেউ ঘরে রেখেছেন, কেউ হয়তো বিক্রি করেছেন। সেই টুকরোগুলো আজ কোথায়? কারো ঘরের দেওয়ালে কি আজও একটা ২৫০ বছরের পুরনো টেরাকোটা ফলক আটকানো আছে? যেটা একসময় কান্তজীউয়ের শিখরে ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর কারো কাছে নেই।

নয়াবাদ মসজিদ — হারিয়ে যাওয়া কারিগরদের নীরব সমাধি

কান্তজীউ মন্দির থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে। ধানক্ষেতের মধ্যে দিয়ে একটা সরু মেঠো পথ। সেই পথ ধরে হাঁটলে একটা ছোট্ট মসজিদ চোখে পড়ে — নয়াবাদ মসজিদ।

মসজিদটা ছোট, তিন গম্বুজওয়ালা। কিন্তু এর গায়ে যে কারুকাজ সেটা দেখলে চমকে যেতে হয়। টেরাকোটার নকশা, ফুলের মোটিফ, জ্যামিতিক প্যাটার্ন — কান্তজীউ মন্দিরের সঙ্গে অদ্ভুত মিল। কেন মিল?

কারণ জনশ্রুতি বলে, কান্তজীউ মন্দির তৈরি করেছিলেন যে কারিগররা, তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন মুসলমান। সেই সময়ে হিন্দু মন্দির নির্মাণে মুসলিম কারিগরদের অংশগ্রহণ অস্বাভাবিক ছিল না — এটা ছিল বাংলার সহবস্থানের সংস্কৃতি। রাজা আর প্রজা, হিন্দু আর মুসলমান একসাথে কাজ করতেন। আর সেই মুসলিম কারিগরদের নামাজ পড়ার জন্য, তাদের ধর্মচর্চার সুবিধার জন্য মন্দিরের কাছেই এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

কিন্তু এখানেই গল্পটা অন্ধকার হয়ে যায়। সেই কারিগররা — তারা কারা ছিলেন? কান্তজীউ মন্দিরের ১৫ হাজার টেরাকোটা ফলকে যে হাজারো মুখ খোদাই করা আছে, সেই মুখগুলো যাদের হাত দিয়ে তৈরি হয়েছে তাদের নিজেদের কোনো মুখ নেই। ইতিহাসে কোনো নাম নেই। কোনো পরিচয় নেই।

চিন্তা করুন একবার। একজন মানুষ মাটি দিয়ে ১৫ হাজার ফলক বানাচ্ছেন। প্রতিটা ফলকে একটা গল্প, প্রতিটাই প্রাণ। তিনি হয়তো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেছেন। তার হাত ক্লান্ত হয়েছে। আঙুল ফুলে গেছে। চোখ জ্বালা করেছে। কিন্তু তিনি থামেননি। কারণ তিনি জানতেন তিনি এমন কিছু বানাচ্ছেন যেটা শত শত বছর টিকে থাকবে। আর আজ ২৫০ বছর পরে তার নামটাও কেউ জানে না।

নয়াবাদ মসজিদটা তাহলে কী? এটা শুধু একটা মসজিদ না — এটা একটা সমাধি। সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষদের সমাধি। যারা বেঁচে থাকতে হারিয়ে গিয়েছিলেন। যাদের কাজ রয়ে গেছে, কিন্তু তারা নিজেরা মুছে গেছেন সময়ের গর্ভে।

আরেকটা প্রশ্ন আছে যেটা কেউ উচ্চস্বরে করেন না। মন্দিরের নির্মাণ শেষ হওয়ার পর এই কারিগরদের কী হয়েছিল? ইতিহাসে এমন অনেক উদাহরণ আছে যেখানে বিশাল স্থাপনা নির্মাণের পর কারিগরদের হত্যা করা হয়েছিল, যাতে তারা অন্য কারো জন্য এই জিনিস বানাতে না পারে। তাজমহলের কারিগরদের হাত কেটে দেওয়ার গল্প আমরা সবাই জানি। সেটা সত্য হোক বা মিথ। কান্তজীউয়ের কারিগরদের ক্ষেত্রেও কি এমন কিছুই ঘটেছিল? তারা কি চলে গিয়েছিলেন? নাকি তাদের চলে যেতে দেওয়াই হয়নি?

নয়াবাদ মসজিদের দেওয়ালে কান পাতলে কি তাদের কণ্ঠস্বর আজও শোনা যায়?

ইতিহাস যাদের ভুলে গেছে

আমরা ইতিহাস পড়ি। ইতিহাসে রাজাদের কথা থাকে। যুদ্ধের কথা থাকে। সাম্রাজ্যের কথা থাকে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কথা? সেই শ্রমিক যে দিঘি খুঁড়তে গিয়ে মারা গেল তার কথা, সেই সুফি যিনি অচেনা দেশে এসে প্রাণ দিলেন তার কথা, সেই কারিগর যিনি মাটি দিয়ে অমরত্ব তৈরি করলেন অথচ নিজে মরণশীল থেকে গেলেন — তার কথা?

ইতিহাস বড্ড পক্ষপাতদুষ্ট। ইতিহাস শক্তিশালীদের মনে রাখে, দুর্বলদের ভুলে যায়।

আর দিনাজপুরের এই পাঁচটা রহস্য — এগুলো আসলে সেই ভুলে যাওয়া মানুষদের চিৎকার। মাটির নিচ থেকে, জলের তলা থেকে, পাথরের ফাঁক থেকে তারা বলছে — আমাদের মনে রাখো।

কিন্তু আমরা কি রাখব?

এই পাঁচটা রহস্যের মধ্যে কোনটা আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়েছে? কোন প্রশ্নের উত্তর আপনি সবচেয়ে বেশি জানতে চান? কমেন্টে লিখুন আপনার মতামত।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url