তিন প্রজন্মের নজরদারির ভয়ঙ্কর রহস্য | The Mystery of Watcher house

তিন প্রজন্মের নজরদারির ভয়ঙ্কর রহস্য  The Mystery of Watcher house

একবার ভাবুন, সকালবেলা আপনার বাড়িতে একটা চিঠি আসল। খামে কোনো নাম নেই, কোনো ঠিকানা নেই। কৌতূহলের বশে চিঠিটা খুললেন। আর খুলেই দেখলেন সেখানে লেখা আছে — তুই বাথরুমে ঢুকে এতক্ষণ ধরে কী করিস আমি জানি। তোর বউকেও দেখলাম। তোর বউয়ের কোমরের নিচে যে ট্যাটুটা আছে ওটাও বেশ ভালো। শুধু এটুকুই বলব, তোদের উপর আমার নজর আছে।

এইটা পড়ার পর আপনার অবস্থা ঠিক কেমন হবে একবার ভাবুন। শিরা দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে যাবে না? ঠিক এইরকমই একটা হাড়হিম করা ঘটনা ঘটেছিল আমেরিকার নিউ জার্সির ওয়েস্টফিল্ডে। আজ থেকে প্রায় ১২ বছর আগে, ২০১৪ সালের ৪ঠা জুন।

স্বপ্নের বাড়ি এবং প্রথম চিঠি

ডেরেক ব্রোডার্স একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। নিজের পরিশ্রম আর মেধার জোরে দারিদ্র্য কাটিয়ে উঠে একটা বড় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। স্ত্রী মারিয়া আর তিনটে বাচ্চাকে নিয়ে সাজানো-গোছানো সুন্দর একটা জীবন। সেই জীবনে স্বপ্ন ছিল একটাই — একটা নিজের বাড়ি, যেখানে বাচ্চারা খেলবে, বড় হবে, পরিবারের সবাই একসাথে থাকবে।

২০১৪ সালে ডেরেকের সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। নিউ জার্সির ওয়েস্টফিল্ডে ছয়টা বেডরুমের বিশাল বাড়ি — ৬৭৫ বুলেভার্ড। দাম পড়ল প্রায় ১.৩ মিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৪ কোটি টাকা। জীবনের সমস্ত পুঁজি ঢেলে কেনা এই বাড়ি ডেরেক আর মারিয়ার কাছে শুধু বাড়ি ছিল না — এটা ছিল তাদের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের বাস্তব রূপ।

কিন্তু সেই স্বপ্নের বাড়িতে ঢোকার আগেই এসে গেল সেই ভয়ঙ্কর চিঠি — দ্য ওয়াচারের চিঠি।

ওয়েস্টফিল্ডে ডেরেক ব্রোডার্সের সদ্য কেনা নতুন বাড়িতে একটা বেনাম চিঠি আসে। সাদা খামের উপর শুধু লেখা: To The New Owner of The House। ডেরেক প্রথমে ভাবল, হয়তো কোনো প্রতিবেশী নতুন বাড়িতে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য লিখেছে। তাই উৎসাহের সাথেই খামটা খুলল। কিন্তু প্রথম লাইনটা পড়েই সে থমকে গেল।

চিঠিতে ইংরেজিতে লেখা ছিল: গত কয়েক দশক ধরে আমার পরিবার এই বাড়ির উপর নজর রাখছে। ১৯২০-র দশকে এই নজরদারির দায়িত্ব ছিল আমার ঠাকুরদার। ১৯৬০ সাল থেকে আমার বাবা, আর এখন ২০১৪ সাল থেকে এই দায়িত্ব নিয়েছি আমি। আপনি জানেন না এই বাড়িটার মধ্যে কী লুকিয়ে আছে। আপনারা কেন এখানে এসেছেন আমি তা খুঁজে বের করবই। বাড়ির ভেতরে কিছু চেঞ্জ করবেন না। তাহলে খুব খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে।

আর চিঠির একদম শেষে লেখা ছিল — ইতি, দ্য ওয়াচার

ডেরেক চিঠিটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। বাইরের রাস্তায় তখনো গাড়ির শব্দ শোনা যাচ্ছে। পাশের বাড়িতে কোথাও একটা টিভি চলছে। সবকিছু একদম স্বাভাবিক। কিন্তু ডেরেকের ওই মুহূর্ত থেকেই মনে হতে শুরু হলো — তাকে কেউ একজন দেখছে।

ভয়কে উপেক্ষা করার চেষ্টা এবং দ্বিতীয় চিঠি

ডেরেকের সামনে তখন দুটো রাস্তা। হয় চিঠিটাকে পাগলামি ভেবে উড়িয়ে দেওয়া, নয়তো ১৪ কোটি টাকায় কেনা বাড়ি ছেড়ে পালানো। ডেরেক সিদ্ধান্ত নিল সে ভয় পাবে না। কয়েকদিন পরেই মারিয়া আর বাচ্চাদের নিয়ে ৬৭৫ বুলেভার্ডে শিফট করে গেল।

কিন্তু নতুন বাড়িতে আসার ঠিক সাত দিনের মাথায় লেটার বক্সে দেখা গেল আরেকটা বেনামি চিঠি। এইবার লেখা ছিল: আপনি ৬৭৫ বুলেভার্ডকে রাগিয়ে দিয়েছেন। আপনার সঙ্গে বাচ্চারাও আছে দেখছি। খুব ভালো। এই ৬৭৫ বুলেভার্ড কচি রক্তই চায়। আমি তিনজনকে দেখতে পেয়েছি। দেখবেন ওরা যেন নিচের বেসমেন্টে খেলতে না যায়। কারণ ওখানে তারা চিৎকার করলেও আপনি সেটা শুনতে পাবেন না। হয়তো আমি সেই লোকগুলোর মধ্যে একজন যারা আপনার বাড়ির সামনে দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করি। আবার হয়তো কখনো আমি আপনার বাড়ির ভেতরেও ঢুকে পড়তে পারি। ওয়েলকাম মাই ফ্রেন্ড। ওয়েলকাম। আসল খেলা এবার শুরু হবে।

এবং যথারীতি চিঠির শেষে — ইতি, দ্য ওয়াচার।

প্রথম চিঠিটাকে হয়তো পাগলামি ভেবে উড়িয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু এই দ্বিতীয় চিঠিতে ওয়াচার বলছে সে তিনটে বাচ্চাকেও দেখেছে। সে জানে বেসমেন্ট থেকে চিৎকার করলে সেটা বাইরে শোনা যাবে না। মানে সে শুধু দূর থেকে দেখছে না — সে বাড়ির ভেতরটাও চেনে। তাই এইবার ডেরেক দেরি না করে সোজা পুলিশকে ফোন করল।

পুলিশের তদন্ত এবং চাঞ্চল্যকর DNA রিপোর্ট

পুলিশ কাজে নেমে পড়ল। ফরেনসিক ভাষাবিশ্লেষণ দিয়ে চিঠির লেখকের প্রোফাইল বিশ্লেষণ শুরু হলো। পোস্টাল সার্ভিস থেকে চিঠির উৎস খোঁজার চেষ্টা করা হলো। তারপর শুরু হলো প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ।

এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে উঠে এলো প্রথম সন্দেহভাজনের নাম — মাইকেল ল্যামফোর্ড। মাইকেল থাকত ৬৭৫ বুলেভার্ডের ঠিক পাশের বাড়িতে, তার ৯০ বছরের বৃদ্ধা মা আর দুই বোনের সাথে। প্রতিবেশীদের মতে, মাইকেল একটু অদ্ভুত ধরনের মানুষ — কারো সাথে কথা বলে না, অন্ধকার লনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একা হাঁটে, আর লোকজনের বাড়িতে কী হচ্ছে সেটা দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু দফায় দফায় জেরা করেও কোনো লাভ হলো না। চিঠিতে থাকা ফিঙ্গারপ্রিন্ট তার সাথে মেলেনি। প্রমাণের অভাবে তাকে ছেড়ে দিতে হলো।

এরপর পুলিশের নজর গেল এলাকার আরেকজনের উপর — একজন যুবক যে ডার্ক গেমিং সাইটে "দ্য ওয়াচার" নামে একটা অ্যাকাউন্ট চালাত। তাকেও থানায় তুলে আনা হলো। কিন্তু এবারেও ফলাফল শূন্য। যেকোনো গেমিং সাইটে এই ধরনের নাম খুবই কমন, আর তার বাড়ির অবস্থান থেকে ৬৭৫ বুলেভার্ড দেখাই যায় না। তাকেও ছেড়ে দিতে হলো।

এদিকে ডেরেক নিজেও চুপ করে বসে নেই। বেশ কিছু প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর হায়ার করল। তারা সবসময় বাড়ির আশেপাশে নজর রাখছে, গাড়ি ট্র্যাক করছে। মাঝে মাঝে কিছু মানুষকে দূরে গাড়ি দাঁড় করিয়ে ৬৭৫ বুলেভার্ডের দিকে তাকিয়ে থাকতেও দেখা গেছে। কিন্তু তদন্ত করে দেখা গেল তারা সবাই উৎসুক জনতা। ততদিনে ওয়াচারের গল্প ওয়েস্টফিল্ডে বেশ পপুলার হয়ে গেছে।

এর মাঝখানেই এমন একটা ঘটনা ঘটল যেটা পুরো তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিল। পুলিশ চিঠির খামগুলো ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়েছিল DNA টেস্টের জন্য। ফরেনসিক ডিপার্টমেন্ট জানাল, খাম আটকানোর জন্য জিভ দিয়ে লালা লাগানো হয়েছিল এবং সেখান থেকে DNA সংগ্রহ করা হয়েছে। আর এই DNA রিপোর্ট হাতে আসতেই সবাই চমকে গেল — ওই DNA কোনো পুরুষ মানুষের নয়, বরং একজন মহিলার।

তাহলে কি দ্য ওয়াচার একজন মহিলা? সঙ্গে সঙ্গে সন্দেহ গেল মাইকেল ল্যামফোর্ডের মা আর বোনেদের দিকে। তাদেরও DNA টেস্ট করা হলো। কিন্তু মিল নেই। এরপর পুলিশ খোদ মারিয়া ব্রোডার্সেরও DNA টেস্ট করল। সেটাও নেগেটিভ। তাহলে এই রহস্যময় মহিলা কে?

এই পর্যায়ে এসে পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ল সম্পূর্ণ অন্য জায়গায়। তারা ধারণা করল, ১.৩ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি কেনার পর ডেরেক হয়তো আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং চুক্তি বাতিল করে টাকা ফেরত পাওয়ার জন্যই নিজেরা নিজেদের এই চিঠিগুলো পাঠাচ্ছে। একদিকে অদৃশ্য শত্রুর আতঙ্ক, অন্যদিকে নিজেরাই পুলিশের সন্দেহের তালিকায় — ডেরেক আর মারিয়া মানসিকভাবে রীতিমতো ভেঙে পড়ল।

তৃতীয় চিঠি: সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আঘাত

তদন্ত চলছে, কিন্তু কোনো সমাধান নেই। এর মাঝেই এলো তৃতীয় চিঠি। আর এই চিঠিটা পড়ে ডেরেক আর মারিয়ার পায়ের নিচের মাটি সরে গেল।

এই চিঠিতে ওয়াচার ডেরেক আর মারিয়ার তিন বাচ্চার নাম লিখেছে, বয়স লিখেছে, জন্মতারিখও লিখেছে। এমনকি তাদের পছন্দের রং, পছন্দের খাবার এবং হবি পর্যন্ত লিখে দিয়েছে। চিঠিতে লেখা ছিল: আমি দেখতে পাচ্ছি এই বাড়িতে একজন ছোট্ট আর্টিস্টও আছে। তোমরা এই বাড়ির যেখানেই যা করো না কেন, আমি ঠিক দেখতে পাবো। আমার থেকে কিছুই লুকাতে পারবে না। তোমাদের লোভই তোমাদের এখানে টেনে এনেছে। গৃহপ্রবেশের শুভকামনা।

এবং যথারীতি — ইতি, দ্য ওয়াচার।

একটা সম্পূর্ণ অচেনা জায়গায় আসা একটা নতুন পরিবারের এত ছোট ছোট ব্যক্তিগত তথ্য কেউ কীভাবে জানতে পারে? এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়, যদি না সেই মানুষটা সারাক্ষণ এই বাড়ির উপর নজর রাখছে।

মারিয়া এই ভয়ে প্রায় পাগল হয়ে গেলেন। বাচ্চাদের বাইরে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। প্রতিবেশীদের সাথেও মেলামেশা বন্ধ। সারা বাড়িতে সবচেয়ে অ্যাডভান্সড সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হলো। কিন্তু তাতেও মনে শান্তি নেই। কারণ এটা ডেরেকের মাথায় ঢুকে গেছে যে ওয়াচার সবসময় তাকে দেখছে।

শেষ পর্যন্ত ডেরেক আর মারিয়া সিদ্ধান্ত নিল এই বাড়িতে আর থাকা যাবে না। বাড়িটা কেনার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় তারা ৬৭৫ বুলেভার্ড ছেড়ে চলে গেল।

চতুর্থ চিঠি এবং ভাড়াটিয়ার কুকুরের মৃত্যু

বাড়িটা ছেড়ে যাওয়ার পরেও সমস্যা শেষ হলো না। বাড়িটা খালি পড়ে আছে, কিন্তু প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের EMI দিতে হচ্ছে ডেরেককে। ২০১৭ সালে কোনো উপায় না দেখে সিদ্ধান্ত নিল বাড়িটা ভাড়া দেবে।

ভাড়াটিয়া পাওয়া গেল। কিন্তু তারা বাড়িতে শিফট করার ঠিক দুই দিনের মাথায় আবার এসে হাজির হলো চার নম্বর চিঠি। এইবার ওয়াচার লিখল: তোমরা কি ভেবেছো বাড়িটা ভাড়া দিয়ে আমার চোখ এড়াতে পারবে? তোমরা এই বাড়িটাকে অপবিত্র করেছ। ডেরেক, তোমাকে আমি ছাড়বো না। কোনো একটা রাতে হয়তো একটা মারাত্মক গাড়ি এক্সিডেন্ট হবে। কিংবা রহস্যময় কোনো আগুনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। হয়তো তোমার আদরের কুকুরটাই আগে যাবে।

এবারের চিঠিটা ডেরেকের হাতে পড়েনি — পড়েছিল ভাড়াটিয়াদের হাতে। তারা ভয় পেলেও বাড়ি ছাড়ল না। তাদের কাছে ভালো সিকিউরিটি সিস্টেম আছে, সাথে দুটো শিকারি কুকুর।

কিন্তু এর কিছুদিন পরেই এক সকালে সেই ভাড়াটিয়া পরিবার আবিষ্কার করল তাদের বাড়ির লনেই একটা কুকুর মরে পড়ে আছে। শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন নেই, বিষক্রিয়ার কোনো প্রমাণও নেই। কুকুরটা যেন হঠাৎ করেই স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে।

ভাড়াটিয়াদের মনে হতে শুরু করল, ওয়াচার চিঠিতে যা যা লিখেছিল সেটা যেন অক্ষরে অক্ষরে ফলে যাচ্ছে। আর এই ঘটনার পর ডেরেক আর মারিয়ার যেটুকু আশা ছিল সেটাও শেষ হয়ে গেল।

স্বপ্নের বাড়ি বিক্রি এবং লোকসান

তারা সিদ্ধান্ত নিল, যে করেই হোক এই বাড়িটা বিক্রি করে দিতে হবে। অবশেষে ২০১৯ সালে, ঘটনা শুরু হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পর, ডেরেক আর মারিয়ার স্বপ্নের বাড়ি ৬৭৫ বুলেভার্ড বিক্রি হয়ে গেল মাত্র ৯ লক্ষ ৫৯ হাজার ডলারে। যে বাড়িটা কেনা হয়েছিল ১.৩ মিলিয়ন ডলারে, সেটা বেচতে হলো অনেকটাই কম দামে — ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪ কোটি টাকার লোকসান।

ডেরেক আর মারিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নটা শেষ হয়ে গেল শুধু কয়েকটা বেনামি চিঠির কারণে।

রহস্যের সবচেয়ে চমকপ্রদ অধ্যায়

এই গল্পের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং অংশ হচ্ছে এখানেই। যারা ডেরেকের কাছ থেকে বাড়িটা কিনেছিল, তারা কিন্তু এখনো ওই বাড়িতে বহাল তবিয়তে থাকে। আর তাদের কাছে আজ পর্যন্ত ওয়াচারের কোনো নতুন চিঠি আসেনি। যেন ডেরেক আর মারিয়া বাড়িটা ছেড়ে যেতেই ওয়াচারের কাজ শেষ হয়ে গেছে।

এই বিষয়টার উপর ভিত্তি করে অনেকেই বলেন, বাড়িটার দাম কমানোর জন্য কেউ পরিকল্পনা করেই এটা করেছিল। কিন্তু দ্য ওয়াচার কে ছিল, কেন সে শুধুমাত্র ব্রোডার্স পরিবারকেই টার্গেট করেছিল, ওই চিঠিতে পাওয়া DNA কার ছিল — এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আজও কেউ জানে না।

২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও এই কেসটা আমেরিকার ক্রাইম হিস্ট্রিতে একটা অন্যতম বড় অনুত্তরিত রহস্য হিসেবে রয়ে গেছে।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url